ঢাকা,  শনিবার
৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস করেছে ইরান * ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি চেম্বার করা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী * শিক্ষকদের যেন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে না হয়: শিক্ষামন্ত্রী * প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান * আকস্মিক তেলের পাম্প পরিদর্শনে জ্বালানিমন্ত্রী, সাশ্রয়ী ব্যবহারের নির্দেশ * মধ্যপ্রাচ্যগামী আজ ২৫ ফ্লাইট বাতিল * ঢামেকে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন অসঙ্গতি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ * দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসার বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * গণভোটের রায় বাতিলের চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলামের অভিযোগ * মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বাংলাদেশের জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনার মুখে: কলকাতা ও ত্রিপুরার কূটনীতিকদের ঢাকায় ডাকা

reporter

প্রকাশিত: ০৯:১৬:৫৩অপরাহ্ন , ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪

আপডেট: ০৯:১৬:৫৩অপরাহ্ন , ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে কলকাতা ও ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান এবং ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনার আরিফুর রহমানকে গত মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান দেশে পৌঁছেছেন। একই দিন আরিফুর রহমানও ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন। তাদের ঢাকায় ফেরানোর মূল উদ্দেশ্য হলো, ভারতীয় গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য ও এর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা।

ত্রিপুরা সহকারী হাইকমিশনে হামলা

ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে গত ২ ডিসেম্বর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একদল উগ্রপন্থি হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা সহকারী হাইকমিশনের ভবনে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলে। এরপর ভবনের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভেঙে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় সেখানে বাংলাদেশি কূটনীতিক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ত্রিপুরায় সহকারী হাইকমিশনের কনস্যুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।

কেন উত্তেজনা?

সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার করার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়। এতে সেদেশের কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় মুম্বাই, কলকাতা এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনে সরাসরি হামলার ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনার পর থেকে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই উত্তেজনার পেছনে ভারতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশবিরোধী উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ইন্ধন রয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে কলকাতা ও ত্রিপুরার শীর্ষ কূটনীতিকদের ঢাকায় এনে বিষয়টি নিয়ে গভীর আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় ফিরিয়ে আনা কূটনীতিকরা তাঁদের দায়িত্বপালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ভারতের স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

এ বিষয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রিপুরার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে এমন উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কূটনৈতিক মহল আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকট নিরসন সম্ভব হবে।

reporter