ঢাকা,  শনিবার
৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:০০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* মধ্যপ্রাচ্যগামী আজ ২৫ ফ্লাইট বাতিল * ঢামেকে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন অসঙ্গতি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ * দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসার বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * গণভোটের রায় বাতিলের চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলামের অভিযোগ * মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বাংলাদেশের জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি * জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব বিএনপির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * চিকিৎসাধীন অর্থমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল * ইডেনে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁচা-মরার লড়াই * নতুন প্রজন্ম সব দেখছে, ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী * ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ভাষা শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মোনাজাতে অংশগ্রহণ

reporter

প্রকাশিত: ০১:৪৪:১৪পূর্বাহ্ন, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ০১:৪৪:১৪পূর্বাহ্ন, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলার বার্তার নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণকৃত

ছবি: বাংলার বার্তার নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণকৃত

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা এক মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে তিনি ভাষার অধিকারের জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণ করেন।

এর আগে একই সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শহীদ বেদীতে ফুল অর্পণ করেন। এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ ভাষা শহীদদের স্মরণে সেখানে সমবেত হন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্রের অগ্রগতি এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য দোয়া করা হয়। উপস্থিত হাজারো মানুষ নীরবে প্রার্থনায় শামিল হন, যা পুরো পরিবেশকে আরও গম্ভীর ও তাৎপর্যময় করে তোলে।

মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানান এবং কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা পৃথকভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে আসতে থাকেন এবং ধারাবাহিকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বিএনপির নেতারাও আলাদাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই হাতে ফুল, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসেন। কেউ কেউ কালো ব্যাজ ধারণ করেন, যা শোক ও শ্রদ্ধার প্রতীক। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি বারবার ধ্বনিত হতে থাকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যারা মাতৃভাষা বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে জীবন দিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। একুশ কেবল শোকের দিন নয়, এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক চেতনা ও অধিকার আদায়ের প্রতীক। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ মাতৃভাষার মর্যাদা ও ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষার বার্তা বহন করে এই দিন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের জনগণের কাছে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এ দিনের আনুষ্ঠানিকতা ও মর্যাদাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ ও বাংলা ভাষার চর্চা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

একুশের প্রথম প্রহরের এই শ্রদ্ধা নিবেদন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার এক প্রতীকী অঙ্গীকার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

reporter