ঢাকা,  রবিবার
২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ০৩:১৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* বিশ্ব বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ঈদ যাত্রায় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী * প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী * উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে * সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায় * ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার * যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব * মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন * ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ * অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: ৪০তম ধাপে ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা

ইরানের হাতে চীনের সিএম-৩০২ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ

reporter

প্রকাশিত: ১১:১৩:৫৭পূর্বাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:১৩:৫৭পূর্বাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, আর এমন প্রেক্ষাপটে চীন থেকে অত্যাধুনিক সিএম-৩০২ সুপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় তেহরান এগিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সিএম-৩০২ মূলত চীনের তৈরি ওয়াইজে-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি সংস্করণ, যা কঠিন জ্বালানিচালিত সুপারসনিক ক্রুজ প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি দিয়ে অত্যন্ত উচ্চগতিতে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ বেগে ছুটতে পারায় এটিকে প্রতিরোধ করা প্রচলিত রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র দূরবর্তী নৌ লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে বলে দাবি করা হয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমনভাবে নকশা করা যে একটি মাত্র সফল আঘাতেই বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভূমি, সমুদ্র কিংবা আকাশ—তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই এটি নিক্ষেপযোগ্য হওয়ায় এর কৌশলগত ব্যবহারিকতা বহুমাত্রিক। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই প্রযুক্তি হাতে পায়, তাহলে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবাধ চলাচল নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, সেখানে সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি সাধন করেছে এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তি শুধু দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাকেই নতুন উচ্চতায় নেবে না, বরং আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নৌ ও আকাশ শক্তির আধিপত্য বজায় রেখে এসেছে, কিন্তু ইরান যদি সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তি অর্জন করে, তাহলে যেকোনও সামরিক সংঘাতের হিসাব-নিকাশ নতুনভাবে করতে হবে। একই সঙ্গে এটি কূটনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে, কারণ এমন উন্নত অস্ত্রের বিস্তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র করে তোলে। ফলে সিএম-৩০২ শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সম্ভাব্য প্রভাবক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

reporter