ঢাকা,  শনিবার
৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:০২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* মধ্যপ্রাচ্যগামী আজ ২৫ ফ্লাইট বাতিল * ঢামেকে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন অসঙ্গতি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ * দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসার বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * গণভোটের রায় বাতিলের চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলামের অভিযোগ * মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বাংলাদেশের জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি * জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব বিএনপির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * চিকিৎসাধীন অর্থমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল * ইডেনে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁচা-মরার লড়াই * নতুন প্রজন্ম সব দেখছে, ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী * ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

রাজশাহীর দুটি জলাভূমিকে ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষণা

reporter

প্রকাশিত: ০৯:১৬:২৫অপরাহ্ন , ০৭ মে ২০২৫

আপডেট: ০৯:১৬:২৫অপরাহ্ন , ০৭ মে ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো সরকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিকে ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন শাখা-২ বুধবার পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহী জেলার তানোর ও গোদাগাড়ি উপজেলার দুটি জলাভূমিকে অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলজোয়ানা মৌজার ১.৬৫ একর জলাভূমি এবং গোদাগাড়ি উপজেলার বিলভালা মৌজার ১৫.০৮ একর জলাভূমিকে ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী কার্যকর হবে।

ঘোষিত দুটি জলাভূমি শীতকালে দেশি ও পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। বিলজোয়ানা ও বিলভালা জলাভূমিতে প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেখা যায় নানা প্রজাতির জলচর পাখি। দেশি পাখির মধ্যে রয়েছে কালেম, কোড়া, ডাহুক, গুড়গুড়ি, জলপিপি ও জলময়ূর। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির মধ্যে রয়েছে বালি হাঁস, পাতি সরালি, বড় সরালি, পিয়াং হাঁস, খুন্তে হাঁস এবং ভূতি হাঁস।

শুধু পাখিই নয়, এসব জলাভূমিতে প্রায় শতাধিক পাখি প্রজাতির পাশাপাশি উভচর, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর বসবাস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি জলাভূমি প্রাকৃতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট চাপে জলাভূমিগুলোর জীববৈচিত্র্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ে। অনেক প্রজাতির পাখি ও প্রাণী ইতিমধ্যে কমে গেছে বা স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত মানবিক হস্তক্ষেপের ফলে পরিবেশের উপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে বিলজোয়ানা ও বিলভালার প্রাণী ও পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত হবে। অভয়ারণ্য ঘোষণার ফলে এই অঞ্চলে শিকার নিষিদ্ধ হবে, এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া এই উদ্যোগ গবেষণা, পরিবেশ শিক্ষা এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষার্থী, গবেষক এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আগ্রহী ব্যক্তিরা এই অভয়ারণ্যে সরাসরি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবিদরা বলছেন, দেশের অন্যান্য জলাভূমিও যাতে পর্যায়ক্রমে অভয়ারণ্যে রূপান্তরিত হয়, সে বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়।

ফলে বিলজোয়ানা ও বিলভালা এখন শুধু রাজশাহীর নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের এক বিশেষ পরিবেশ সংরক্ষণ মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই অভয়ারণ্যগুলো দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

reporter