ছবি: স্বতন্ত্র প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যাচাইবাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনেই বিভিন্ন কারণে অসংখ্য প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়, যার বড় অংশজুড়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। হলফনামার এফিডেভিটে সঠিকভাবে স্বাক্ষর না থাকা, ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের অসামঞ্জস্য, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ উপস্থাপন করতে ব্যর্থতা, মামলার তথ্য গোপন বা ভুলভাবে দাখিল, ঋণখেলাপির তথ্যসহ নানাবিধ প্রশাসনিক ও আইনগত ত্রুটিকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, রংপুর, গাইবান্ধা, পটুয়াখালী, পাবনা, ভোলা, নাটোর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও নীলফামারীসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, আবার কোথাও অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখও এই যাচাইবাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, যার একটি বড় অংশ যাচাইবাছাইয়ের ধাপেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যাচাইবাছাই শেষ হলে আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। তবে এই ব্যাপক বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতার গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনের নির্বাচনী পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
reporter